দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মিসাইল ও ড্রোন হামলায় শনিবার ইউক্রেনে অন্তত দুইজন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবারুদের ঘাটতির মধ্যেই রাশিয়া নতুন করে এই হামলা চালিয়েছে।
রাজধানী কিয়েভে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন হামলায় ১১ জন আহত হন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, বিমান হামলার সতর্কসংকেত জারির আগেই বেসামরিক অবকাঠামোয় আঘাত হানা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চলছে।
তিনি জানান, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী অধিকাংশ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা যায়নি। ন্যাটো সম্মেলনে প্রতিশ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দ্রুত সরবরাহের জন্য মিত্র দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ছয়টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২১টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ১১১টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
পরে সকালে বন্দরনগরী ওদেসায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুইজন নিহত ও একজন আহত হন। পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভে একটি বেসামরিক প্রতিষ্ঠানে ড্রোন আঘাত হানলে আরও সাতজন আহত হন।
ইউক্রেন জানিয়েছে, তাদের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। গত এক মাস ধরে অতিধ্বনির গতিতে ছোটা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে দেশটি বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মিত্র দেশগুলোর কাছে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা গোলাবারুদ সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছে কিয়েভ। একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগও এগিয়ে নিতে চায় ইউক্রেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে নিজস্ব প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়া হবে।
শনিবারের হামলার পর জেলেনস্কি বলেন, এসব প্রকল্প যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় হামলা বাড়িয়েছে। চলতি মাসেই এসব হামলায় ৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ইউক্রেনও অধিকৃত দক্ষিণাঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। জ্বালানি ও গোলাবারুদ পরিবহন ব্যাহত করতে ট্রাক ও জাহাজে হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে কিয়েভ।
ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর প্রধান রবার্ট ব্রোভদি দাবি করেছেন, শনিবার রাতে আজভ সাগরে ২১টি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার এবং আরও সাতটি মালবাহী ও সহায়ক জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। তার দাবি, চলতি সপ্তাহে মোট ৭৬টি জাহাজে আঘাত হেনেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।
সূত্র: রয়টার্স
/অ